Header Ads

নেট্রাম ফসফরিকাম (Natrum Phosphoricum) [ নেট-ফস- Nat Phos]

নেট্রাম ফসফরিকাম (Natrum Phosphoricum) [ নেট-ফস- Nat Phos]
নেট্রাম ফসফরিকাম (Natrum Phosphoricum) [ নেট-ফস- Nat Phos]
নেট্রাম ফসফরিকাম (Natrum Phosphoricum) [ নেট-ফস]
এন্টিসাইকোটিক
ভিন্ন নাম- সোডিয়াম ফসফেট, নেট্রাম ফসফেট ইত্যাদি
সাধারণ নাম- ফসফেট অফ সোডা
সংক্ষিপ্ত নাম - নেট-ফস- Nat Phos

প্রস্তুত পদ্ধতি- কার্বনেট অফ সোডিয়াম সহ অর্থোফসফরিক এসিড মিশ্রিত করিয়া, কিংবা অস্থি ভষ্ম করিয়া ইহা প্রস্তুত করিতে হয়। ইহার স্বচ্ছ দানা সমূহে শতকরা ১২ অংশ জল থাকে। ইহা পরিশ্রুত সুরায় দ্রব হয় না- ৬ অংশ শীতল জল ও ২ অংশ উষ্ণ জলে দ্রব হয়। বিচুর্ণ পদ্ধতিতে ইহার শক্তি প্রস্তুত হয়।

ক্রিয়া- ডাঃ শুসলার এই ঔষধ যেরূপ বিস্তুতভাবে ব্যবহার করিয়া গিয়াছেন, হোমিওপ্যাথিক মতে ইহার তাদৃশ প্রচলন হয় নাই। রক্ত, পেশী, অস্থি, গ্রন্থি, স্নায়ু, মস্তিষ্ক, উদর, ফুসফুস প্রভৃতির উপর এই ঔষধ বিশেষ কার্য করিয়া থাকে। মানব শরীরে ল্যাকটিক এসিড নামক পদার্থ সর্বদাই বিদ্যমান থাকে। ল্যাকটিক এসিডের সহি এই লবণিক পদার্থ মিশ্রিত হইয়া উহাকে কার্বনিক এসিড ও জল এই দুই ভাগে বিভক্ত করিয়া দেয়। ল্যাকটিক এসিডের উপর নেট্রাম ফসের বিশেষ প্রভাব বিদ্যমান থাকায়, ল্যাকটিক এসিডের আধিক্যবশতঃ যে সমস্ত পীড়ার উৎপত্তি হয়, নেট্রাম ফসের আভ্যন্তরীণ প্রয়োগেই তথায় একমাত্র আরোগ্যের উপায়। নেট্রাম ফস কোলেষ্টারিনকে পিত্তনালীস্থ শ্লেষ্মা ও পিত্তের সহিত ঘনীভূত হইতে দেয় না। যদি কোন কারণে কোলেষ্টারিন ঘনীভূত হইয়া যায়, তাহা হইলে পিত্তভাব বা পিত্ত বিকৃতিবশতঃ পিত্তশূল, কমলা, শিরঃপীড়া তৈলাক্ত খাদ্যসমূহ ভক্ষণজতি অজীর্ণ প্রভৃতি বহুবিধ পীড়া উপস্থিত হয়। এই সমস্ত অবস্থা উপস্থিত হইলে নেট্রাম ফসের অভাব অবগত হইয়া নেট্রাম ফসই প্রয়োগ বিহিত। বলা বাহুল্য, নেট্রাম ফস উপযুক্ত মাত্রায় থাকিলে ঐ সমস্ত পীড়া উৎপন্ন হইতে পারে না।

রক্তে ফসফেট অফ সোডা উপযুক্ত পরিমাণে থাকিলে ল্যাকটিক এসিড হইতে কার্বনিক এসিড ও জল প্রস্তুত হইয়া কার্বনিক এসিডকে ফুসফুস পথে নিষ্ক্রান্ত করিয়া দেয়। কিন্তু যদি কোনও কারণে ফসফেট অফ সোডার অভাব হইয়া থাকে, তাহা হইলে যথোপযুক্ত ক্রিয়ার অভাবে ল্যাকটিক এসিড শরীর হইতে নির্গত হইতে না পারিয়া অবিকৃত অবস্থায় থাকিয়া গিয়া শরীরে অম্লের ভাগ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। শরীরে অম্লের ভাগ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হইলে অজীর্ণ ও বিবিধ আন্ত্রিক পীড়ার সৃষ্টি হয়। যাবতীয় বাত ইহার অভাবনিবন্ধন উৎপন্ন হয়। অম্লোদগার, অম্লবমন, মুখে অম্লজল উঠা, অম্লগন্ধ মল, জিহ্বায়ও যে কোন স্থানে সোনার ন্যায় হরিদ্রাভ ময়লা যে কোন রোগের সহিতই দৃষ্ট হইবে, তাহাতেই এই ঔষধ ফলপ্রদ হইবে। এক কথায় ইহা অম্ললক্ষণ সহ যাবতীয় রোগের মহৌষধ।

রক্তস্থ শর্করার সহিত ফসফেট অফ সোডার বিশেষ সম্বন্ধ আছে। কোনও কারণে রক্তে শর্করার অংশ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হইলে ফসফেট অফ সোডা রক্ত হইতে উহা বহিষ্কৃত করিয়া দেয়। কিন্তু যদি কোনও কারণে রক্ত হইতে উহা নিষ্ক্রান্ত হইতে না পারে, তাহা হইলে বহুমূত্র রোগের সৃষ্টি হয়। এই জন্য নেট্রাম ফস বহুমূত্র রোগের প্রধাণ ঔষধ।

এই লাবণিক পদার্থের অভাব হইলে মানসিক লক্ষণও বিশেষ তারতম্য দৃষ্ট হয়। রাত্রিতে ভয় করা এবং কোন দুর্ঘটনা ঘটিবে বলিয়া আশঙ্কা করা। যে পীড়ার সহিত উক্ত প্রকার লক্ষণ থাকিবে তাহাতেই এই ঔষধ ফলপ্রদ হইবে।

স্মরণ রাখা কর্তব্য যে, এ্যালবুমেনের সহিত ফসফেট অফ লাইমের যে সম্বন্ধ, অম্লের সহিত ফসফেট অফ সোডারও সেইরূপ সম্বন্ধ। দেহে অম্ল সঞ্চিত হইতে থাকিলে এবং উহা নির্গত হইতে অসমর্থ হইলে সাধারণে উহাকে অম্লের পীড়া বা অম্লের আধিক্যবশতঃ পীড়া বলিয়া থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ফসফেট অফ সোডার ন্যুনতাবশতঃই ঐ প্রকার হইয়া থাকে।


পরিচায়ক লক্ষণ-
  1. মানসিক উদ্বেগ, খিটখিটে ও উত্তেজিত প্রকৃতি। স্মরণশক্তির অল্পতা। রাত্রিকালে ভীতিজনক উৎকষ্ঠা। রাত্রে নিদ্রাভঙ্গের পর গৃহের সামগ্রীকে মনুষ্য বলিয়া মনে করে। 
  2. প্রাতঃকালে নিদ্রাভঙ্গের পরেই মস্তকের শিখরদেশে বেদনা এবং তৎসহ জিহ্বায় সরের ন্যায় হরিদ্রাবর্ণের লেপ। টক বমন অথবা পাকস্থলীর বিশৃঙ্খলা সহ অম্ললক্ষণ। 
  3. জিহ্বার পশ্চাৎপাভের আদ্র্রতাসহ সরের ন্যায় হরিদ্রাবর্ণের ময়লা দ্বারা আবৃত হওয়া এই ঔষধের পরিচায়ক লক্ষণ। 
  4. ইহার সর্বপ্রকার স্রাবই হরিদ্রাবর্ণের সরের ন্যায় এবং কোন স্থানে ক্ষত হইলে তাহার উপর যে মামড়ী পড়ে, তাহার বর্ণও সোনা ন্যায়। 
  5. এই ঔষধের অম্ললক্ষণ একটি অতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য লক্ষণ এবং যে সমস্ত রোগের সহিত অম্লবমন, অম্লোদগার, মুখে জল উঠা, বুকজ্বালা, স্রাবে ও ঘর্মে অম্লগন্ধ ইত্যাদি অম্ললক্ষণ থাকে, তাহাতেই ইহা বিশেষ সাফল্যের সহিত ব্যবহৃত হয়। 
  6. টনসিলাইটিস, গলক্ষত, গলগণ্ড, গন্ডমালা, রক্তহীনতা প্রভৃতি রোগের সহিত জিহ্বা ও স্রাবের বর্ণ হরিদ্রা হইলে বিশেষ প্রয়োজনীয়। গণ্ডমালায় ক্ষত হইবার পূর্বে ব্যবহৃত হয়। 
  7. সর্বপ্রকার কৃমির উপদ্রবে ইহাই প্রধান ঔষধ। বালকেরা রাত্রিকালে দাঁত কাটে। কৃমির জন্য অস্থির নিদ্রা। নাক খোঁটা ও চুলকান।
  8. জিহ্বার পশ্চাৎপাভের আদ্র্রতাসহ সরের ন্যায় হরিদ্রাবর্ণের ময়লা দ্বারা আবৃত লক্ষণসহ যে কোন প্রকার অজীর্ণ পীড়া। শিশুদিগের পেটকামড়ানিসহ অম্লগন্ধযুক্ত দাস্ত ও বমন। অম্ল অথবা কৃমিবশতঃ শিশুদের পেট কামড়ায়; কামড়ানিসহ সবুজ রংয়ের তরল বাহ্যে এবং ছানার ন্যায় জমাট দুগ্ধবমন। তৈলাক্ত দ্রব্য ও কাঁচা ফল ভক্ষণ সহ্য হয় না। 
  9. কৃমিজাত ওলাউঠার প্রধান ঔষধ। ভেদ বমনের অম্লগন্ধ এবং উহাতে অতিশয় কষ্ট। 
  10. কৃমিবশতঃ বালকদিগের শয্যামূত্র (নেট্রাম মিউর, কেলি মিউর) মূত্রাশয়ের পক্ষাঘাতবশতঃ ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব ( কেলি ফসসহ); মূত্রাশয়ের পেশীগুলির দূর্বলতাবশতঃ মূত্রবেগ ধারণে অসমর্থ ( ফেরাম ফসসহ)। 
  11. প্রস্রাব বন্ধ থাকিলে, অথবা পুনঃপুনঃ প্রস্রাব ত্যাগেচ্ছা সহ প্রমেহ পীড়া। হরিদ্রবর্ণের পুঁজস্রাব। অম্নধর্মাক্রান্ত প্রস্রাব। প্রস্রাবকালীন জ্বালা। পিত্তশিলা। 
  12. অম্ল ও অজীর্ণলক্ষণসহ স্বপ্নদোষ। শুক্রতারল্য অধিক দিনব্যাপী অপরিমিত ইন্দ্রিয়সেবার ফলে হস্ত, পদ, কোমর প্রভৃতি স্থানে দূর্বলতা ও বিবিধ কুফল। 
  13. অনিয়মিত ঋতুস্রাব-কাল পূর্ণ হইবার পূর্বে এবং দীর্ঘকালস্থায়ী। স্রাব হরিদ্রাবর্ণ ও অম্লগন্ধ যুক্ত। শ্বেতপ্রদর।
  14. যোনি বা জরায়ু হইতে অম্লধর্মাক্রান্ত স্রাবনিঃসরণ হওয়ার ফলে বন্ধ্যাত্ব। 
  15. অম্ললক্ষণযুক্ত অজীর্ণপীড়াসহ ক্ষয়কাশিতে ইহাই প্রধাণ ঔষধ। শ্লেষ্মা ফেলিবার সময় উহা ওষ্ঠে লাগিয়া জিহ্বায় ও মুখে ক্ষত। 
  16. সন্ধিবাত। হস্ত ও পদের দুর্বলতা ও ক্লান্তি। বাতজ্বর সহ অম্লগন্ধ ঘর্ম। 
  17. অজীর্ণ ও অম্ললক্ষণসহ রেকােইটিস পীড়া ( ক্যাল্ক-ফসসহ)। 
  18. অম্ল ও কৃমিলক্ষণসহ জ্বর। 
বিশেষত্বঃ 
নেট্রাম ফসের নাম করিলে প্রথমেই মনে পড়িয়া যায় ইহার অম্লনাশক ক্ষমতার বিষয় এবং যে কোন পীড়ার সহিত অম্ললক্ষণ থাকিবে তাহাতেই ইহা বিশেষ উপযোগিতার সহিত ব্যবহৃত হইবে। অতপর কৃমিজনিত যাবতীয় উপসর্গেই ইহা একমাত্র ঔষধ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। যে কোন স্থান হইতে সরের ন্যায় হরিদ্রবর্ণ স্রাব নিঃসৃত হইলেই এই ঔষধের নাম স্মরণ হয়। জিহ্বাতেই ঐরূপ বর্ণের লেপ ইহার প্রকৃতিসিদ্ধ লক্ষণ। শুক্রতারল্য, স্বপ্নদোষ, বাত ও প্রমেহ রোগে অন্য ঔষধ দিবারপূর্বে ইহার বিষয় একবার চিন্তা করিয়া দেখা কর্তব্য। যদিও লক্ষণানুসারে ঔষধ নির্বাচন করা কর্তব্য, তাহা হইলেও ঐ সমস্ত রোগে অনেক সময় এই ঔষধের লক্ষণ দৃষ্ট হয়। 

মানসিক লক্ষণঃ 
মানসিক উদ্বেগ, আশা ভরসাহীন, কোন দূর্ঘটনা ঘটিবে বলিয়া সন্দেহ হয়। রাত্রিতে নিদ্রাভঙ্গের পর গৃহস্থিত আসবাপত্রকে মনুষ্য বলিয়া মনে করে এবং পার্শস্থ গৃহে কোনও কোন মানুষ্য চলাফেরা করিতেছে মনে করিয়া ভীত হয়। রোগী অতিশয় উত্তেজিত, খিটখিটে এবং সামান্য কারণে ভীত হয়। স্বপ্নদোষের পর মন অতিশয় বিমর্ষ হয়। স্মরণশক্তি অতিশয় হ্রাসপ্রাপ্ত হয়। জিহ্বায় যেন একটা চুল রহিয়াছে এরূপ বোধ হয়। রাত্রিকালে আসন্ন বিপদের ভয়ে ভীত হওয়া এই ঔষধের একটা বিশেষ লক্ষণ। মন অতিশয় অবসন্ন। সহজেই চমকাইয়া উঠে। 

বহুল ব্যবহৃত শক্তিঃ 3X, 6X, 12X

[নেট্রাম ফসফরিকাম (Natrum Phosphoricum) [ নেট-ফস- Nat Phos] best remedy for headache, apoplexy, eye and ear disease, coryza, bleeding gum, worms, tonsillitis, diphtheria, dyspepsia, vomiting, hiccough, disease of intestine, diarrhoea, cholera, constipation, colic pain, uraemia, stone in the bladder, enuresis, nephritis, diabetes, gonorrhaea, night pollution, disease from excessive venery, leucorrhoea, displacement of uterus, sterility, cough, phthisis, palpitation, anaemia, scrofula, goitre, gout, rheumatism, rachitis, ulcer, fever শিরঃপীড়া, সন্ন্যাস, চক্ষু ও কর্ণের পীড়াসমূহ, সর্দি, দাঁতের পীড়া, কৃমি, টনসিল প্রদাহ, গলক্ষত, ডিফথিরিয়া, অজীর্ণ, বমন, হিক্কা, অন্ত্রের পীড়া, ওলাউঠা, কোষ্ঠবদ্ধতা, শূলবেদনা, মুত্রবিকার, মুত্রপাথরি, শয্যামূত্র, নেফ্রাইটিস, বহুমূত্র, প্রমেহ, স্বপ্নদোষ, শ্বেতপ্রদর, জরায়ুর স্থানচ্যুতি, বন্ধ্যাত্ব, কাশি, ক্ষয়কাশি, রক্তহীণতা, গণ্ডমালা, গলগন্ড, সর্বপ্রকার বাত, রেকাইটিস, ক্ষত, জ্বর পীড়ায় ব্যবহৃত ঔষধ ] [শারিরিক ও মানসিক লক্ষণ থাকা জরুরী]

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.