Header Ads

ম্যাগ্নেসিয়া ফসফরিকাম (Magnesia Phosphoricum ) [ ম্যাগ ফস- Mag. Phos. ]

ম্যাগ্নেসিয়া ফসফরিকাম (Magnesia Phosphoricum ) [ ম্যাগ ফস- Mag. Phos. ]

ম্যাগ্নেসিয়া ফসফরিকাম (Magnesia Phosphoricum ) [ ম্যাগ ফস- Mag. Phos. ]
ম্যাগ্নেসিয়া ফসফরিকাম (Magnesia Phosphoricum ) [ ম্যাগ ফস]
এন্টিসাইকোটিক 
ভিন্ন নাম - ফসফেট অফ ম্যাগনেসিয়া। 
সাধারণ নাম- ম্যাগ্নেসিয়া ফসফরিকাম। 
সংক্ষিপ্ত নাম - ম্যাগ ফস- (Mag. Phos.)।
প্রস্তুত পদ্ধতি- ফসফেট অফ সোডা ও সালফেট অফ ম্যাগ্নেসিয়া একত্রে মিশ্রিত করিয়া ইহা প্রস্তুত করা হয়। দুগ্ধশর্করা সহ ইহার বিচুর্ণ প্রস্তুত হয়। জলে ইহার আংশিক দ্রব হয়, কিন্তু উত্তাপে পুরায় তাহা জমাট বাঁধিয়া যায়। 
ক্রিয়া- শরীরের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের বায়ু ও পেশী আছে এবং তাহারা বিভিন্ন বর্ণের সৌত্রিক পদার্থে নির্মিত। প্রত্যেক বর্ণের সূত্র সকল আবার ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের অজৈব লবন দ্বারা সঞ্চালিতি এবং প্রত্যেক প্রকার সূত্রের কার্যও স্বতন্ত্র প্রকারের। শরীরস্থ অন্ডলালিক পদার্থের সহিত এই পদার্থ মিশ্রিত হইয়া স্নায়ু ও পেশীর শ্বেতবর্ণের সূত্রসমূহ নির্মিত হইয়া থাকে। পেশী ও স্নায়ুর শ্বেত সূত্রসমূহে প্রধানতঃ এই ম্যাগ্নেসিয়া ফসই দৃষ্ট হইয়া থাকে। এই কারণে যখন পেশী ও স্নায়ুসমূহের শ্বেতবর্ণ পদার্থে ম্যাগনেসিয়া ফসের ন্যুনতা ঘটে, তখনেই উক্ত শ্বেত সূত্রসমূহের সঙ্কোচন জন্মে এবং সঙ্কোচনই আক্ষেপ, তড়কা প্রভৃতি বিবিধ নামে অভিহিত হইয়া থাকে। এই জন্য কোন পেশী ও স্নায়ুর সঙ্কোচনবশতঃ কোন পীড়া হইলে শক্তিকৃত ম্যাগ্নেসিয়া সফই দেওয়া বিধেয় এবং তাহাতে আশ্চার্য ফল দর্শে। 

শ্বেত সূত্রে ম্যাগ্নেসিয়া ফসের ন্যূনতা হইলে সঙ্কোচন জন্মে-এ কথা পূর্বেই বিবৃত হইয়াছে এবং ঐ সঙ্কোচনবশতঃ বোধক স্নায়ুতে চাপ লাগে। ঐ চাপের ফলে ছিড়িয়া যাওয়া, হুল ফুটান, ছুঁচ বা তীব্র বিদ্ধ অথবা বিদ্যুৎ প্রবেশবৎ এবং স্থানপরিবর্তনশীল বেদনা হঠাৎ আসে, হঠাৎ যায় ইত্যাদি বিবিধ প্রকারের বেদনা উপস্থিত হয়। বেদনা সকল সামান্য স্পর্শে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু চাপ প্রদানে হ্রাস পায়। ঠান্ডায় বৃদ্ধি-গরমে উপশম। যাবতীয় আক্ষেপই এই ঔষধের ক্রিয়ার অন্তর্গত। 

পাকস্থলীর গাত্রস্থ পেশীসমূহ মধ্যে এই পদার্থের ন্যুনতা হইলে পাকস্থলীর শ্বেত সূত্রসমূহ সঙ্কুচিত হয় এবং সঙ্কোচনের ফলেই পাকস্থলীর গহ্ববরও সঙ্কুচিত হইয়া যায়। কিন্তু প্রকৃতি ঐ ক্রমবর্ধমান সঙ্কোচন শক্তিকে রোধ করিবার জন্য উদরমধ্যে একপ্রকার গ্যাসের উৎপত্তি করায় এবং ঐ গ্যাসই পাকস্থলীকে স্ফীত রাখে। এই জন্য উদরে বায়ুসঞ্চয় সহ পেটকামড়ানি বা শূলবেদনা ম্যাগ্নেসিয়া ফসে আরোগ্য হয়।
ম্যাগ্নেসিয়া ফসের সহিত ক্যাল্করিয়া ফসের ক্রিয়ার অনেক সাদৃশ্য আছে। এইজন্য শরীরে ম্যাগ্নেসিয়া ফসের অভাব হইলৈ প্রকৃতি ক্যাল্কেরিয়া ফস হইতে কতকাংশ গ্রহণ করিয়া উহার অভাব পূরণ করে। এই কারণে ম্যাগ্নেসিয়া ফসের লক্ষণ থকা সত্তেও যখন উহাতে উপকার না হয়, তখন ক্যাল্কেরিয়া ফস দিলেই যাবতীয় লক্ষণ দূরীভূত হইয়া যায়। কেন না, ম্যাগ্নেসিয়া ফসের অভাব পূর্বেই ক্যাল্কেরিয়া ফস হইতে পূর্ণ হইয়া গিয়াছে। এখন ক্যাল্কেরিয়া ফসের অভাব থাকাতেই উহা দেওয়া মাত্রই পীড়া আরোগ্য হইয়া গেল। 

পাকস্থলীর বাম পার্শের স্ফীতিবশতঃ যখন হৃৎপিন্ডের কোনও পীড়া হয়, তখনই ইহা বিশেষ উপকারী। 
ইহা কোরিয়া পীড়ার প্রধান ঔষধ। আক্ষেপযুক্ত সর্বপ্রকার রোগে ইহা বড় একটা ব্যর্থ হয় না। শরীরের দক্ষিণ দিকেই এই ঔষধের অধিক ক্রিয়া দৃষ্ট হয়। 

বায়ুপ্রধান লোকদিগের কোন কোন পীড়ায় এই ঔষধ ভাল খাটে। স্থুলকায় অপেক্ষা শীর্ণকায় ব্যক্তিদিগের শরীরে এই ঔষধ অধিক ক্রিয়া দৃষ্ট হয়। 

ডাঃ শুসলার তাঁহার বাইওকেমিক চিকিৎসায় এই ঔষধের বহুল প্রচলন করিলে হোমিওপ্যাথক চিকিৎসায় এই ঔষধ স্থান প্রাপ্ত হইয়াছে, কিন্তু বাইওকেমিকের ন্যায় এরূপ বিস্তৃতভাবে নহে। 

বিশেষত্বঃ ম্যাগ ফসের কথা স্মরন হইলেই মনে হইয়া যায় ইহার আক্ষেপ নিবারণের অদ্ভুত ক্ষমতার বিষয়। যে কোন রোগেই, তা সে কলেরা, শিশুদিগের দন্তোদগমনকালীন পীড়া ইত্যাদি যাহাই হউক না কেন, যদি আক্ষেপ থাকে তাহা হইলে এই ঔষধের সাহায্য গ্রহণ করিতে হইবে। ওলাউঠায় রোগী যখন সমস্ত কষ্ট অপেক্ষা হস্ত পদাদির খালধরা নিবারণের  জন্য বারংবার করুণস্বরে আকুতি মিনতি করিতে থাকে, তখন ম্যাগ-ফসই তাহার একমাত্র। এই ঔষধের বেদনার প্রকৃতি বিবিধ। বেদনাই হউক, অথবা অন্যকোন রোগই হউকনা কেন, ইহার সর্বপ্রকার যন্ত্রণাই উষ্ণতায় উপশম এবং শীতলতায় বৃদ্ধি পায়। ইহার সর্বপ্রকার বেদনাই উত্তাপে, চাপনে, সম্মুখদিকে ঝুঁকিলে উপশম হয়। ইহা হিক্কার প্রধান ঔষধ, কেননা হিক্কা আক্ষেপিক। 


পরিচায়ক লক্ষণঃ
  1. রোগী বেদনার জন্য সর্বদা দুঃখ প্রকাশ করে এবং ক্রন্দন করে।  দুঃখের জন্য দীর্ঘনিঃশ্বাসও ত্যাগ করে।  
  2. ইহাই সর্বপ্রকার শূলবেদনার মহৌষধ। বেদনা আক্ষেপিক, অথবা স্নায়বিক। শিশুদিগের শূলবেদনায় পা গুটাইয়া থাকে। উদরের স্ফীতিবশতঃ শূল। উদরকামড়ানি। বেদনা তীক্ষ্ণ ছরিবিদ্ধবৎ, স্থান পরিবর্তনশীল বেদনা, বিদ্যুৎবৎ বেদনা আসে আর হঠাৎ চলিয়া যায়। ইহার সর্বপ্রকার বেদনাই উত্তাপে, চাপনে, সম্মুখদিকে ঝুঁকিলে উপশম এবং শীতলতায় বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়। (ইহা পরিচায়ক লক্ষণ) রোগের আক্রমণ দক্ষিণদিকেই অধিক। 
  3. অতিশয় যন্ত্রণাদায়ক শিরঃপীড়া। স্নায়বীয় শিরঃপীড়া সহ বিদ্যুৎবৎ আলো দর্শন করে। ইহার বেদনায় হ্রাস বৃদ্ধি ও প্রকৃতি পরিচায়ক লক্ষণের মতই। 
  4. চক্ষুর স্নায়ুশূল এবং আক্ষেপিক স্পন্দন ( ক্যাল্ক-ফস, নেট্রাম মিউর) দ্বিত্ব দৃষ্টি। 
  5. দন্ত বেদনা উত্তাপে উপশম, শীতলতায় বৃদ্ধি। 
  6. পাকস্থলীর আক্ষেপিক বেদনাবশথঃ বমন। বমনে পিত্ত, শ্লেষ্মা, জমা দুগ্ধ এবং অজীর্ণকর পদার্থও উঠে। বেদনার প্রকৃতি এবং হ্রাস বৃদ্ধি পরিচায়ক লক্ষণের মতই। 
  7. উদরাময়ে জলবৎ তরল মল পিচকারীর ন্যায় বেগে নির্গত হয় ( নেট্রাম সালফ)। উদরাময় সহ পায়ের ডিমে কামড়ানি বা খালধরা। শিশুদের উদরে বায়ু জমিয়া শূলবেদনা এবং তজ্জনিত ক্রন্দন। 
  8. রক্তামাশয়ে অতিশয় উদরবেদনা ও কুন্থণ থাকিলে কেলি মিউর সহ পর্যায়ক্রমে। 
  9. হিক্কার প্রধান ঔষধ। 
  10. লেখকদিরে এবং পিয়ানো বাদকদিগের আঙ্গুলির আক্ষেপ। 
  11. মূত্রাশয় ও উহার গলদেশের আক্ষেপিক বেদনা, প্রস্রাবকালীন কুন্থন, জ্বালা এবং মূত্ররোধ। পাথুরি নির্গমণকালীন অসহ্য বেদনা। 
  12. কষ্টরজঃপীড়ার বেদনা নিবারনার্থ উৎকৃষ্ট। ঋতুস্রাব সহ অসহ্য বেদনা। স্রাব হইতে আরম্ভ করিলেই বেদনার উপশম। ঋতুর রক্ত কাল, দড়াপানা এবং জরায়ু বাহির হইয়া যাইবে মনে হয়। 
  13. আক্ষেপিক প্রসববেদনা, সুতিকা-আক্ষেপ, ধনুষ্টঙ্কার, কোরিয়া পীড়ায় নানা স্থানের স্পন্দনে, আক্ষেপিক পক্ষাঘাত ( কেলি ফস), হৃদশূল, অতিরিক্ত হস্তমৈথুনবশতঃ মৃগী, আক্ষেপ, হৃদস্পন্দন প্রভৃতি সর্বপ্রকার আক্ষেপিক ও স্নায়বিক বেদনায় ইহা  একমাত্র ঔষধ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। 
  14. ক্রুপ, হাঁপানি, যক্ষ্ণা প্রভৃতি সর্বপ্রকার কাশি আক্ষেপিক ধরণের হইলে। কাশি অত্যন্ত কষ্টজনক, শুষ্ক এবং থাকিয়া থাকিয়া হয়। শয়নকালে কাশির বৃদ্ধি। শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট। ক্ষয়কাশিতে যখন গুলিকাবিগলন হয়। 
  15. বাতবেদনা উত্তাপে উপশম। শয়ন করিল, রাত্রিকালে, সঞ্চালনে বৃদ্ধি-প্রাতে নিদ্রাভঙ্গের পর ভ্রমণে হ্রাস। 
মানসিক লক্ষণসমূহ- রোগীর মন ও বুদ্ধির গোলযোগ হয়। দুঃখ করিয়া দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করে, আরও ঐ সময় হাই উঠে। বেদনার জন্য সর্বদা দুঃখপ্রকাশ করে এবং ক্রন্দন করে। মানসিক পরিশ্রম করিতে অনিচ্ছুক এবং মানসিক পরিশ্রশের শক্তিও তাহার থাকে না। মন যেন অবসন্ন। পুস্তক পাঠ করিতেও অনিচ্ছুক, আবার পাঠ করিতে গেলেও নিদ্রিত হইয়া পড়ে। রোগী বেশী কথা বলিতেও পারে, আবার জড়ভরতের ন্যায় চুপ করিয়া থাকিতেও পারে। বিবেচনা করিবার শক্তি হ্রাস প্রাপ্ত হয়।

[ম্যাগ্নেসিয়া ফসফরিকাম (Magnesia Phosphoricum ) [ ম্যাগ ফস- Mag. Phos. ] Best remedy for headache, eye diseases, ear disease, coryza, toothache, dental pain, dyspepsia, gastrodynia, cholera, hiccough, colic, piles, paralysis, rheumatism, angina pectoris, palpitation, neuralgia, epilepsy, tetanus, fever, মাথা ব্যাথা, চোখের সমস্যা, কানের সমস্যা, সর্দি, পেটে বেদনা, পাতলা পায়খানা, রক্তামাশয়, দাঁতের বেদনা, টনসিল, গলক্ষত, অজীর্ণতা, অর্শ, হিক্কা, শূলবেদনাতে বহুল ব্যবহৃত বাইওকেমিক ঔষধ ][শারিরিক ও মানসিক লক্ষণ থাকা জরুরী]

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.