Header Ads

নেট্রাম সালফুরিকাম (Natrum Sulphuricum ) [নেট-সালফ Nat Sulph]

নেট্রাম সালফুরিকাম (Natrum Sulphuricum ) [নেট-সালফ]

নেট্রাম সালফুরিকাম (Natrum Sulphuricum ) [নেট-সালফ Nat Sulph]
নেট্রাম সালফুরিকাম (Natrum Sulphuricum ) [নেট-সালফ Nat Sulph]
এন্টিসোরিক, এন্টিসাইকোটিক ও এন্টিসিফিলিটিক
ভিন্ন নাম- সোডিয়াম সালফেট, সোডি সালফাস
সাধারণ নাম- সালফেট অফ সোডা, গ্লবার্স সল্ট
সংক্ষিপ্ত নাম-নেট-সালফ (Nat Sulph)

প্রস্তুত পদ্ধতি-সাধারণতঃ সমুদ্রজলে এবং লবনাক্ত হ্রদে ইহা পাওয়া যায়। উহা ভিন্ন সাধারণ লবণের সহিত সালফুরিক এসিড মিশ্রিত করিয়া বিশুদ্ধ দানা সকল প্রস্তুত করা যায়। বিশুদ্ধ দানা সকল ইহাতে দুগ্ধশর্করা সহ চুর্ণ প্রস্তুত করা হইয়া থাকে।

ক্রিয়া-শারীরিক কোষে নেট্রাম সালফের অস্তিত্ব দৃষ্ট হয় না, কেবল কোষমধ্যস্থ তরল পদার্থে উহা আছে দেখা যায়। শরীর হইতে অপ্রয়োজনীয় জলীয়াংশকে বহির্গত করিয়া দেওয়াই ইহার কার্য এবং ইহার দ্বারা দেহস্থিত রস ও জলের সমতা রক্ষিত হয়। নেট্রাম ফস শরীরে জল প্রস্তুত করে, নেট্রাম মিউর দ্বারা সমস্ত বিধানে পরিব্যাপ্ত হয় এবং নেট্রাম সালফের দ্বারা শরীরস্থ উদবৃত্ত বা অপ্রয়োজনীয় জল শরীর হইতে নিঃসৃত হইয়া যায়।  নেট্রাম মিউর ও নেট্রাম সালফ উভয়ই জল আকর্ষন করিয়া থাকে; কিন্তু নেট্রাম মিউর জল আকর্ষণ করিবার পর উহা শরীরের নির্মাণ কার্যে যে স্থানে যাহা দরকার তাহা প্রদান করিয়া থাকে, আর নেট্রাম সালফ বাকী অনাবশ্যকীয় জলটুকু শরীর হইতে নিঃসৃত করিয়া দেয়। ধমনিক রক্ত চলাচলের ব্যতিক্রম হইলে নেট্রাম মিউর, আর শৈরিক রক্ত চলাচলের ব্যতিক্রম হইলে নেট্রাম সালফ উপযোগী।

যখন নেট্রাম সালফের ন্যুনতা হয় অর্থাৎ অনাবশ্যকীয় জলীয়াংশ নিঃসৃত হইতে না পারে, তখন রক্ত দুষিত হয় এবং নানা প্রকার পীড়ার উদ্ভব হয়। জ্বর, ওলাউঠা, শোথ, নাসিকা হইতে সবুজ বা হরিদ্রাভ সবুজবর্ণের শ্লেষ্মা নির্গত হয়। নেট্রাম মিউর ও সালফার এই উভয় ঔষধের একত্র সংমিশ্রণের জন্যই ম্যালেরিয়া জ্বরে ইহা এত সুফলপ্রদ।

সর্বপ্রকার নেট-সালফের অভাব লক্ষিত হয় বলিয়া সুক্ষ্ণ মাত্রায় উহা একক অথবা পর্যায়ক্রমে দিতে হয়। বর্ষাকালে বিবিধ পীড়ায়, আদ্র বায়ু বা জলাশয়ের নিকটে স্যাতসেতে মৃত্তিকায় বাস করার জন্য যে সমস্ত পীড়া হয়, তাহাতেই এই ঔষধ বিশেষ উপকারী। বর্ষকালের বিবিধ পীড়ায় ইহাই প্রধান অবলম্বন।

পিত্তের উপর এই ঔষধের আশ্চার্য ক্রিয়া লক্ষিত হয় এবং ইহা পিত্তের সমতা রক্ষা করে। পিত্তবিকৃতি বশতঃ যে কোন পীড়া হউক না কেন, তাহাতেই ইহা অব্যর্থ। কোন রোগের সহিত পিত্তবমন, পিত্তবাহ্য, মুখের আস্বাদ তিক্ত, জিহ্বার সবুজাভ ধুসর বা সবুজাভ বাদামী- বা পাংশুটে বর্ণের লেপ থাকিলে ইহাকে নিঃসন্দেহে নির্বাচন করা যায়।
ইহা রক্তরোধক গুণযুক্ত; এইজন্য স্ত্রীলোকদিগের জরায়ু, নাসিকা ইত্যাদি স্থান হইতে রক্তস্রাবে ইহা ফলপ্রদ।

পরিচায়ক লক্ষণ-
  1. পিত্তাধিক্যজনিত লক্ষণ সহ যে কোনও রোগে উৎকৃষ্ট। মুখের তিক্তস্বাদ, পিত্তবমন, পিত্তভেদ, জিহ্বায় পিত্তজ কোটিং ইত্যাদি সমস্তই পিত্তাধিক্যের লক্ষণ। 
  2. জিহ্বায় সবুজাভ ধুসর বা সবুজাভ বাদামী বা পাংশুটে বর্ণের লেপ ইহার প্রকৃতিসিদ্ধ লক্ষণ। 
  3. অধিক পিত্তবৃদ্ধিবশতঃ মানসিক উত্তেজনা ও আত্মহত্যা করিতে ইচ্ছা। জীবন-ধারণে বিতৃষ্ণা। অতিশয় খিটখিটে এবং বিষন্ন। প্রাতঃকালে রক্ষণ সকলের বৃদ্ধি। 
  4. মস্তকে আঘাত বা পতনের ফলে মানসিক পীড়া। 
  5. হাইড্রোজেনয়েড কনষ্টিটিউশান ধাতুর রোগীর অর্থাৎ যে সমস্ত রোগীর আদ্রতা একেবারেই সহ্য হয় না, বর্ষাকালেও শুষ্ক বায়ু হইতে আদ্র বাতাসের পরিবর্তনে যাহাদের পীড়ার উৎপত্তি হয়, তাহাদের যাবতীয় রোগের ইহা মহৌষধ। শুধু তাহাই নহে, জলজ উদ্ভিদ, ফল বা মৎস্য খাইলেও অসুখ হয়। সাইকোটিক ধাতুর রোগীদেরও ইহা উপযুক্ত ঔষধ। প্রাতঃকালে রোগের বৃদ্ধি ইহার আর একটি উৎকৃষ্ট লক্ষণ। জলে ভিজিয়া নানা প্রকার পীড়া। 
  6. নাসিকা হইতে গাঢ় হরিদ্রবর্ণের শ্লেষ্মানিঃসরণ এবং কিছুক্ষণ থাকিবার পর উহা সবুজবর্ণ ধারণ করে। আদ্র বাতাস সহ্য হয় না এবং সর্দি হয়। 
  7. পিত্তবৃদ্ধিবশতঃ মুখ ন্যাবা বা কমলার ন্যায় হরিদ্রাবর্ণ, ফ্যাকাশে বা রক্তহীন। 
  8. যে কোন অজীর্ণপীড়া। পেটে বায়ু জমিয়া শূলবেদনা। সীসক ব্যবহার হেতু শূলবেদনা। পেটের ভিতর অহরহ গড়গড় শব্দ করে। প্রাতঃকালে নিদ্রাভঙ্গের পর দুই এক পপদ হাঁটিতে আরম্ভ করিলেই অত্যন্ত বাহ্যের বেগ হয় এবং তজ্জন্য অতিশয় তাড়াতাড়ি পায়খানায় দৌড়াইতে হয়। তরল মলত্যাগের পর মনে আনন্দের উদয় হয়। 
  9. যকৃতের বেদনা বামদিকে শয়নে, হস্ত স্পর্শে ও আদ্র বায়ুতে বৃদ্ধি। যকৃতে রক্তাধিক্য ( ফেরম ফস)। বিরক্তিবশতঃ কমলা। 
  10. পিত্ত ও জিহ্বার লক্ষণসহ ওলাউঠায় ব্যবহৃত হয়। ইহা ওলাউঠার প্রতিষেধক। 
  11. বহুমূত্রপীড়ায় মূত্রের সর্করা কমাইতে এই ঔষধের প্রভূত ক্ষমতা আছে। লিথিক এসিডের তলানি প্রস্রাবে থাকে। সুরকি গুড়ার ন্যায় এবং বালুর ন্যায় তলানি প্রস্রাবে থাকে। প্রস্রাবের সহিত অতিশয় পিত্ত নিঃসৃত হয়। 
  12. জ্বালা যন্ত্রণাবিহীন পুরাতন গণোরিয়া রোগে ঘন হরিদ্রাভ বা সবুজাভ স্রাব নিঃসৃত হয়। লুপ্ত প্রমেহপীড়া। 
  13. ঋতুস্রাবের পূর্বে, অথবা সময়ে নাসিকা হইতে রক্তস্রাব। অধিক পরিমাণে ঋতুস্রাব নির্গত হয় এবং নিঃসৃত হইবার সময়ে যে যে স্থানে লাগে সেই স্থানসমূহ চুলকায়, জ্বালা করে এবং সেই সেই স্থানে ফুষ্কুড়ির মত হয়। ঐরূপ লক্ষণযুক্ত শ্বেতপ্রদর। 
  14. কাশির কষ্টে বিছানার উপর উঠিয়া বসিতে বাধ্য হয় এবং উপশম আশায় হস্ত দ্বারা বক্ষঃস্থল চাপিয়া ধরে। বাম ফুসফুসের নিম্নে ক্ষতবৎ বেদনা থাকা এই ঔষধের একটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ। দড়ির ন্যায় গাঢ় সবুজবর্ণের শ্লেষ্মা নির্গত হয়। বর্ষাকালে ও আদ্র বায়ুতে পীড়ার উৎপত্তি বা বৃদ্ধি। এই সমস্ত লক্ষণ হাঁপানি, নিউমোনিয়া, সাধারণ কাশি ইত্যাদি যে কোনও ফুসফুসের পীড়া সহ থাকিবে, তাহাতেই এই ঔষধ দ্বারা সুফল ফলিবে। প্রাতঃকালে কাশির বৃদ্ধি। পিত্তলক্ষণ থাকিলে আরও উপযোগী। 
  15. বেরিবেরি ও শোথ পীড়ার প্রধান ঔষধ। বর্ষাকালে এবং স্যাঁতসেতে স্থানে বাস জন্য পীড়া। 
  16. জ্বরের সহিত পিত্তলক্ষণ থাকিলে। 

বিশেষত্বঃ এই ঔষধের বিষয় স্মরণ হইলেই পিত্তবৃদ্ধিজনিত লক্ষণের বিষয় স্মরণ হয়। ফলতঃ যে কোন রোগের সহিতই হউক না কেন, যদি মুখে তিক্তাস্বাদ, পিত্তবমন, পিত্তভেদ, সবুজাভ কটা অথবা পাংশুটে বর্ণের লেপযুক্ত জিহ্বা, মুখ চক্ষু হরিদ্রাবর্ণ ইত্যাদি পিত্তবৃদ্ধিজনিত লক্ষণ থাকে, তাহাতেই এই ঔষধ ব্যবহার করিলে নিশ্চয়ই উপকার হইবে। যে কোন স্থান হউক না কেন, সবুজাভ- অথবা হরিদ্রাবর্ণের স্রাব নিঃসৃত হওয়া ইহার বিশেষ লক্ষণ। বর্ষাকালে ও আদ্র বায়ুতে পীড়ালক্ষণের বৃদ্ধি বা উৎপত্তি হইলে, ইহা সর্বপ্রকার রোগেই সুন্দর কাজ করে।

মানসিক লক্ষণঃ পিত্তাধিক্যবশতঃ মানুসক উত্তেজনা, অধিক প্তি নিঃসরণ হইলে উত্তেজনা অতিশয় বৃদ্ধি পায় এবং তজ্জন্য আত্মহত্যা করিতেও দ্বিধাবোধ করে না। নিজের জীবনের প্রতি বিন্দুমাত্র্ও মমতা থাকে না, মনে করে তাহার সমস্ত সাধই পূর্ণ হইয়া গিয়াছে। রোগী অতিশয় বিষন্ন, খিটখিটে, কথা বলিতে চাহে না এবং কাহারও কথা শুনিতে চাহে না। সঙ্গী চাহে না। মানসিক অবসাদ এত বেশী যে, উৎকৃষ্ট গীতবাদ্যেও রোগিনী দুঃখিত হইয়া পড়ে। পাতলা মল নিঃসরণের পর মনে আনন্দ হয়। মনের দুঃখে ক্রন্দন করে। মস্তকে বাহ্য আঘাতবশতঃ বিবিধ জটিল মানসিক পীড়া। আঘাত বাপতনের ফলে নানা প্রকার মস্তিষ্করোগ। প্রাতকালে এবং আদ্র বায়ুতে সকল প্রকার রোগলক্ষণের বৃদ্ধি ইহার একটি প্রধান লক্ষণ। 

বৃদ্ধি-সকালে, আদ্র বায়ুতে, বর্ষাকালে, সমুদ্র তীরবর্তী ও স্যাঁতসেতে স্থানে বাসে, জলের মধ্যে অথবা ধারে উৎপন্ন শাকশব্জি আহারে, শীতল জল পানে, বাম পার্শে শয়নে, স্থির হইয়া বসিয়া থাকিলে, স্পর্শ করিলে, বিশ্রামে ও মৎসাহারে পীড়া লক্ষণের বৃদ্ধি। 

হ্রাস-শুষ্ক বায়ু, শুষ্ক স্থানে বাস, চাপনে ( বেদনার), মুক্ত বায়ুতে, বসিলে ও অবস্থান পরিবর্তনে (কাশির) রোগ লক্ষণ হ্রাস হয়।  

শক্তি- 6X অধিক ব্যবহৃত হয়।

[নেট্রাম সালফুরিকাম (Natrum Sulphuricum ) [নেট-সালফ Nat Sulph] best remedy for headache, spinal meningitis, apoplexy, hemicrania, disease of the eye and ear, coryza, bleeding form the nose, dental pain, diphtheria, dyspepsia, diarrhoea, liver disease, gallstone, peritonitis, dysentery, cholera, constipation, colic, fistula in ano, piles, diabetes, hydrocele, gonorrhoea, syphilis, leucorrhoea, retention of the urine, phthisis, all kind of cough, asthma, gout, lumbago, beriberi, plague, pox, dropsy, spleen disease, septicaemia, erysipelas, fever, মাথাব্যাথা, মেরুমজ্জা-ঝিল্লির প্রদাহ, সন্নাস, অর্ধ-শিরঃশূল, চোখ ও কানের রোগ, সর্দি, নাক হতে রক্তপড়া, দাঁতের বেদনা, ডিফথেরিয়া, অজীর্ণতা, উদরাময়, যকৃত পীড়া, পিত্তশিলা, পেরিটোনাইটিস, রক্তামাশয়, ওলাউঠা, কোষ্ঠবদ্ধতা, শূল বেদনা, ভগন্দর, অর্শ, বহুমূত্র, একশিরা, প্রমেহ, শ্বেতপ্রদর, বমি, মূত্রাবরোধ, যক্ষাকাশি, সর্বপ্রকার কাশি, হাঁপানি, হৃৎপিন্ডের পীড়া, গ্রন্থিবাত, কটিবাত, বেরিবেরি, প্লেগ, বসন্ত, শোথ, প্লীহার পীড়া, সেপটিসিমিয়া, চর্মপীড়া, জ্বর রোগে বহুল ব্যবহৃত বাইওকেমিক ঔষধ] [শারিরিক ও মানসিক লক্ষন থাকা জরুরী]

1 টি মন্তব্য:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.