Header Ads

ক্যাল্কেরিয়া সালফুরিকাম [ Calcarea Sulphuricum] [Calc Sulp ক্যালকেরিয়া সালফ ]

বাইওকেমিক ঔষধ ক্যাল্কেরিয়া সালফুরিকাম [Calcarea Sulphuricum] [Calc Sulp ক্যাল্ক সালফ ] লক্ষণ ব্যবহার ঔষধ সম্পর্ক।।

বাইওকেমিক ঔষধ ক্যাল্কেরিয়া সালফুরিকাম [Calcarea Sulphuricum] [Calc Sulp ক্যাল্ক সালফ ] লক্ষণ ব্যবহার ঔষধ সম্পর্ক।।

 ভিন্ন নাম - ক্যালসিয়াম সালফেট অফ লাইম। 

সাধারণ নাম- জিপসাম (Gypsum), প্লাষ্টার অফ প্যারিস। 

সংক্ষিপ্ত নাম - ক্যাল্ক-সালফ (Calc Sulph)।

প্রস্তুত পদ্ধতি - অনেক স্থানের জলে এই পদার্থ পাওয়া যায়। ইহা একপ্রকার শ্বেতবর্ণ  দানা দানা পদার্থ বিশেষ। ইহা েক্যাল্কেরিয়া ডাইলিউট সালপুরিক অ্যাসিড মিশ্রিত করিয়া উৎপন্ন হয়। 

ক্রিয়া- ডাঃ শুসলার যদিও এই ঔষধের পরিবর্তে নেট্রাম ফস ও সাইলিসিয়া প্রয়োগ করিতে উপদেশ দিয়া ইহার ব্যবহার নিষেধ করিয়াছেন, তথাপি আমরা ইহার দ্বারা উপকার প্রাপ্ত হই বলিয়া ইহাকে পরিত্যাগ করিতে পরিলাম না; হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকগণ পূর্বে এই ঔষধের বিষয়ে কিছুই অবগত ছিলেন না। ডাক্তার শুসলার তাহার বাইওকেমিক চিকিৎসা পুস্তকে ইহার বিষয় লিপিবদ্ধ করিবার পর, হোমিওপ্যাথগণও ইহার ব্যবহার আরম্ভ করেন এবং প্রভূত ফলপ্রাপ্ত হন। 

এই ঔষধের ক্রিয়া সমস্ত সিরাস-ঝিল্লি (Serous Membrane) শ্লৈষ্মিক-ঝিল্লি, সিরাস-গহ্বর (Serous Cavity), সকল স্থানের ক্ষত, এমন কি টিউবারকুলার ক্ষত ইত্যাদির উপর বিশেষভাবে দেখা যায়। টিশু (Tissue)মধ্যস্থ অকর্মণ্য পদার্থসমূহকে নিঃসৃত করিয়া দেওয়াই ইহার কার্য। যকৃত হইতে নির্গত পিত্তে ইহার অস্তিত্ব বর্তমান আছে। যকৃৎ মধ্যস্থ অকর্মণ্য রক্তের কেবলমাত্র জলীয়াংশ গ্রহণ করিয়াই তাহাকে দূরীভূত করে; তাই শরীরের স্বাভাবিক অবস্থার কোন পরিবর্তন লক্ষিত হয় না। কিন্তু যদি কোন কারণে পিত্তে ক্যাল্ক-সালফের অভাব হয়, তাহা হইলে অপ্রয়োজনীয় রক্ত নিঃসৃত হইতে না পরিয়া, চর্ম ও শ্লৈষ্মিক-ঝিল্লি পথে আসিয়া বিবিধ রোগের সৃষ্টি করে। ইহার সেবন দ্বারা অভাবের পূরণ করিলে দেখা যায় যে, টিশু মধ্যে অকার্যকরী পদার্থসমূহ সঞ্চিত হইয়া চর্মোপরি যে স্থানসমূহে স্ফীতি ও অবিরত পুঁজ নিঃসৃত হইতেছেল, তাহা শীঘ্রই স্বাভাবিক অবস্থায় পরিণত হয়। এইজন্য যে সকল স্থান দিয়া বহুদিন হইতে পুঁজ নিঃসৃত হইতে থাকে-কিছুতেই পুঁজ বন্ধ হয় না, সেই সকল ক্ষেত্রে ইহা মন্ত্রশক্তির ন্যায় কার্য করিয়া থাকে। এই ঔষধ প্রয়োগে অত্যল্পকাল মধ্যেই ঐ প্রকার ক্ষত শুষ্ক হইয়া যায়। হরিদ্রবর্ণ, গাঢ়, রক্তসংযুক্ত পুঁজই ইহার নির্দেশক লক্ষণ। কোন প্রদাহের প্রারম্ভাবস্থায় ইহার ব্যবহার দৃষ্ট হয় না। নাসিকায় সর্দি, ফুসফুসের সর্দি, অন্ত্রস্থ সর্দি ইত্যাদি সকল প্রকার সর্দির তৃতীয়াবস্থায় ইহা ব্যবহৃত হয়। প্রর্বপ্রকার ক্ষতের তৃতীয়াবস্থায় ইহা কার্যকরী হয়। পুঁজের সহিত ইহার এত নিকট সম্বন্ধ রহিয়াছে যে, শরীরে এই পদার্হের অভাব না ইহলে পুঁজোৎপত্তি হইতে পারে না।  ইহার পুঁজের লক্ষণ পূর্বেই বলিয়াছি; কিন্তু কোন ক্ষতস্থান হইতে পাতলা পুঁজ নিঃসৃত হইলে ইহার অভাব হয় নাই মনে করা সঙ্গত নহে। কেন না এই পদার্থের সহিত নেট্রাম মিউরের অভাববশতঃই পুঁজ তরল হয়। সুতরাং চিকিৎসাকালে ইহার সহিত অন্য যে ঔষধের ক্রিয়া দৃষ্ট হইবে, অনেক সময় সেই ঔষধই ইহার সহিত পর্যায়ক্রমে ব্যবহারের আবশ্যক হইয়া পড়ে। 

পরিচায়ক লক্ষণ (Characteristic Symptoms)- 

১। মানসিক অবস্থার পরিবর্তনশীলতা। মনঃস্থির করিয়া কোন কার্যই করিতে পারে না। স্মরণশক্তির হ্রাস। 

২। ঠাণ্ডা লাগিয়া শিরঃপীড়া এবং উম্মুক্ত বায়ুতে তাহার উপশম। 

৩। বালকদিগের মস্তকের ক্ষতে হরিদ্রাবর্ণের গাঢ় পুঁজ, কিংবা হরিদ্রাবর্ণের মামড়ী পড়ে। 

৪। মস্তকে অতিশয় খুসকি জন্মে। 

৫। যে কোন স্থানের এবং যে কোন প্রকার ক্ষতই হউক না কেন, তাহাতে হরিদ্রাবর্ণের গাঢ় পুঁজ, অথবা রক্তের ছিটযুক্ত পুঁজ থাকিলে ইহা নিষ্ফল হয় না। যে সকল ক্ষত হইতে বহুদিন ধরিয়া পূর্বোক্ত প্রকার পুঁজ নিঃসৃত হয়, কিছুতেই ক্ষতস্থান শুষ্ক হইতে চাহে না, তাহাতে ইহা অব্যর্থ। 

৬। সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, ক্ষয়কাশে, ষ্ফোটক, ক্ষত কর্ণপীড়া, চক্ষুপীড়া, ফিশ্চুলা ইত্যাদি যাবতীয় স্রাবশীল পীড়ার তৃর্তীয়াবস্থায় ইহার গাঢ় পুঁজ অথবা রক্তের ছিটযুক্ত স্রাব থাকিলে ইহা অব্যর্থ। 

৭। ইহার স্রাবের সহিত সাইলিসিয়ার স্রাবের সদৃশ্য আছে; তবে সাইলিসিয়ার স্রাবে অতিশয় দূর্গন্ধ থাকে, আর ইহার স্রাবে দুর্গন্ধ থাকে না। 

৮। কোন স্থানের স্ফীতি, যেমন ষ্ফোটক ইত্যাদিতে-ইহার দ্বিবিধ ক্রিয়া সৃষ্ট হয়। ক্যাল্ক-সালফ কোন স্থানের  পূঁজ নিঃসরণ বনধ করিতে যেমন অদ্বিতীয়, আবার পূঁজোৎপত্তির পূর্বে প্রদত্ত হইলে পুঁজোৎপত্তি নিবারণ করে। পূঁজোৎপত্তি নিবারণ করিতে হইলে প্রায়ই প্রথমাবস্থায় ফেরাম ফস অথবা দ্বিতীয়াবস্থায় কেলি মিউরের সহিত পর্যায়ক্রমে দিবার প্রয়োজন হয়।

৯। কোন গভীর স্থানে পূঁজোৎপত্তি হওয়া। 

১১। জানুসন্ধিতে সূচীবিদ্ধবৎ বেদনা এবং স্পর্শসহিষ্ণুতা। পুঁজোৎপত্তির পূর্বে ফেরাম ফস সহ পর্যায়ক্রমে। 

১১। কোন জিনিষের অর্ধাংশ মাত্র দেখা। 

১২। উদরাময় ও রক্তামাশয়ে পূঁজবৎ, পূঁজের সহিত রক্তসংযুক্ত ও পূঁজসংযুক্ত শ্লেষ্মা থাকিলে উৎকৃষ্ট। পাকাশয়ের ক্ষত, টাইফয়েড, টাইফাস ইত্যাদি পীড়ায় পূর্বোক্তরূপ মল থাকিলে। 

১৩। ঋতুস্রাব অতিশয় বিলম্বে হয় িএবং বহুদিন পর্যন্ত থাকে। 

১৪। জিহ্বার কর্দমবৎ ময়লা। জিহ্বার আস্বাদ সাবানের ন্যায় তীক্ষ্ন। 

১৫। আর্দ্রতায় বৃদ্ধি এবং শুষ্কতায় হ্রাস। উন্মুক্ত বায়ুতে রোগী আরাম বোধ করে। 

বিশেষত্ব(Peculiarity) পীড়ার নাম যাহাই হউক না কেন এবং যে কোন স্থান হইতেই উহা নির্গত হউক না কেন যদি হরিদ্রাবর্ণের গাঢ় পূঁবৎ, অথবা রক্তের ছিটযুক্ত পুঁজস্রাব নির্গত হয় েএবং ঐ স্রাবে যদি বহুদিন হইতে নিঃসৃত হইবার ইতিহাস প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহা হইলে আর কথা নাই, ক্যাল্ক-সালফ প্রয়োগ করিলে হাতে হাতে ফল প্রাপ্ত হওয়া যায়। ইহা সর্বপ্রকার পীড়ার তৃতীয়াবস্থায় ব্যবহৃত হয়। 

মানসিক লক্ষণ(Mental Symptoms) মানসিক অবস্থায় পরিবর্তনশীলতা, অর্থাৎ এক এক সময় এক এক প্রকার কার্য করে- মনঃস্থির করিয়া কিছুই করিতে পারে না। হঠাৎ স্মরণশক্তির হ্রাস বা জ্ঞানশূণ্যতা, ভীতচিত্ত ও ক্রোধী। ক্রোধের পর দূর্বলতা অনুভব। ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে উৎকন্ঠা, মুক্ত সম্বন্ধে উৎকষ্ঠা ও প্রাতে জাগরিত হইবার পর উৎকষ্ঠা। প্রাতে ও সন্ধ্যায় মনের গোলমাল। উৎকষ্ঠা ও মনের গোলগোগ উম্মুক্ত বাতাসে উপশমিত হয়। রাত্রেতে নিদ্রিত হইবার চেষ্টা করিলে ভীতিদায়ক মূর্তি সকল দেখে। মৃত্যুভয় সর্বদাই যেন ভীত থাকে। পাগল হইবার ভয়, দূর্ভা্যে হইবার ভয়, বিপদের ভয় এবং নানা প্রকার ভয় তাহার সর্বদাই থাকে। রত্রিকালেই আবার ভয়ের অধিক্য দৃষ্ট হয় নানপ্রকার অদ্ভুত ও খামখেয়ালী ভাব দেখা যায়। অস্থির বিষন্ন, একগুয়ে, ভীরু, লজ্জাশীল, ভয়যুক্ত ও ঝগড়াটে। সহজেই দোষ গ্রহণ করে এবং নিজে অপমানিত বোধ করে। সে কথা কহিতে কহিতে ভুল করিয়া বসে এবং শব্দ ব্যবহার করে। সহজেই চমকিয়া উঠে। চতুর্দিকে যে কি ব্যাপার হইতেছে, তাহা সে লক্ষ্যও করে না এবং নিজে খুব ব্যস্ত থাকে। যে সমস্ত লোকের সহিত তাহার মতের মিল হয় না, তাহাদিগকে দেখিতে পারে না েএবং এইজন্য সে দুঃখিত হয়। 

Aggravation- বৃদ্ধি- ঠাণ্ডা লাগিলে, জলে ভিজিলে এবং স্যাঁতসেঁতে স্থানে থাকিলে পীড়ালক্ষণের বৃদ্ধি হয়। হাঁটিলে বিশেষতঃ দ্রুত হাঁটিলে, শরীর উত্তপ্ত হেইলে অনেক রোগলক্ষণের বৃদ্ধি হয়। শয্যার উত্তাপে ও গরম ঘরে বৃদ্ধি। দাঁড়োইলে বহু রোগ, বিশেষতঃ সন্ধিস্থানের পীড়াসমূহ বর্ধিত হয়। 

Amelioration - হ্রাস- শুষ্ক ও উষ্ণ বায়ুতে পীড়ালক্ষণের হ্রাস। উম্মুক্ত বায়ুতে রোগী উপশম বোধ করে। অনেক সময় অনাবৃত থাকিতে চাহে। 

Potency - শক্তি- ডাঃ শুসলার 6 ব্যবহার করিতে বলেন। অন্যান্য বােইওকেমিক মহারথীরা সর্বদা 6X. 12X, 30X ও 200X শক্তি ব্যবহার করিয়া ফলপ্রাপ্ত হইতেছি। ইহার উচ্চতর শক্তিগুলিই অধিক ফলপ্রদ। 

সম্বন্ধ- আরক্ত জ্বরের পর শোধ হইলে নেট্রাম সালফের সহিত; কর্ণিয়ায় ক্ষত, বা পুঁজযুক্ত গ্রন্থিতে, দন্তমাঢ়ীর ষ্ফোটক, স্তনপ্রদাহে, টনসিল প্রদাহে সাইলিসিয়ার সহিত ঘুংড়ি বা ক্রুপ কাশিতে, আমাশয়, চর্মরোগে, গণ্ডের স্ফতিতে কেলি মিউরের সহিত স্নায়ুশূলে ম্যাগ-ফস ও কেলি ফসের সহিত; প্রদাহের তৃতীয় অবস্থায় কেলি সালফ ও সাইলিসিয়ার সহিত ক্যাল্ক-সালফের তুলনা হয়। 

তুলনাযোগ্য হোমিওপ্যাথিক ঔষধ- উপযুক্ত নির্বাচন সত্ত্বেও ঔষধের ক্রিয়া আশানুরূপ না হইলে সালফর সোরিনাম ইত্যাদি ঔষধের ন্যায়ক ক্যাল্ক-সালফ ও ব্যবহৃত হয়। সাধরণতঃ ইহা প্রদাহের তৃতীয়াবস্থায় কেলি মিউরের পর ব্যবহৃত হয়। হিপার সালফের পর বা উহার কার্য শেষ হইলে প্রায়ই(প্রদাহাদির ক্ষেত্রে) ক্যাল্ক-সালফ ব্যহৃত হয়। অধিকন্তু উহার ক্রিয়া হিপার সালফ অপেক্ষা অধিকত গভীর ক্রিয়াশীল এবং দীর্ঘস্থায়ী। পূঁজের ক্ষেত্রে ইহার সহিত ক্যালেন্ডুলার তুলনা করা যায়। 


২টি মন্তব্য:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.